নগর আদালত আইন: প্রস্তাবিত রূপরেখা এবং বাস্তবায়নের সম্ভাবনা শীর্ষক

By | October 7, 2020

নগরবাসীর ক্ষুদ্র বিরোধ আদালতে নয়, স্থানীয় পর্যায়ে নিষ্পত্তিতে আইন প্রয়োজন

আদালতে মামলা নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রিতা, হয়রানি ও অর্থ ব্যয়ের কারণে মানুষ ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিরোধ স্থানীয় পর্যায়ে সমাধানে বেশী আগ্রহী। ইউনিয়ন পর্যায়ে জনগনের জন্য এ ধরনের বিরোধ মীমাংসার জন্য রয়েছে গ্রাম আদালত। পৌরসভা পর্যায়ে রয়েছে বিরোধ মীমাংসা বোর্ড (পৌর এলাকা) আইন ২০০৪। ফলে ইউনিয়ন ও পৌরসভা পর্যায়ের জনগন তাদের মধ্যে সংঘটিত ক্ষুদ্র বিরোধ আদালতে না গিয়ে স্থানীয়ভাবে ইউনিয়ন পরিষদ এবং পৌরসভার মাধমে মীমাংসার সুযোগ নিয়ে হয়রানী ও অর্থ বাঁচাতে সক্ষম হচ্ছে। কিন্তু দেশের ১২ টি সিটি কর্পোরেশনে বসবাসরত প্রায় ২ কোটি মানুষের জন্য এ ধরনের কোনো আইন নেই। ফলে ক্ষুদ্র বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য তাদের আদালতের শরণাপন্ন হতে হয়। স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য আইনের প্রয়োজনীয়তা আছে।
এ সকল বক্তব্য উঠে আসে নগর আদালত আইন: প্রস্তাবিত রূপরেখা এবং বাস্তবায়নের সম্ভাবনা শীর্ষক একটি ভার্চুয়াল আলোচনা অনুষ্ঠানে। মাদারীপুর লিগ্যাল এইড এসোসিয়েশন (এমএলএএ), এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম, বাংলাদেশ, বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) এবং নাগরিক উদ্যোগ-এর আয়োজনে ১০ অক্টোবর ২০২০ তারিখে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
নগর আদালত আইন: প্রস্তাবিত রূপরেখা এবং বাস্তবায়নের সম্ভাবনা
আলোচনা সভায় এমএলএএ-এর প্রধান সমন্বয়ক জনাব খান মোঃ শহীদ, এই প্রস্তাবিত আইনের একটি রূপরেখা উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, আদালতে বর্তমানে প্রায় ৩৬ লক্ষ মামলা বিচারাধীন। এর মধ্যে মেট্রোপলিটন এলাকায় মামলার জট আরো বেশী। বাংলাদেশের একজন বিচারকের বিপরীতে মামলার সংখ্যা প্রায় ১৮৮৩ টি। প্রতি এক লক্ষ মানুষের জন্য বিচাকের সংখ্যা ০.৭৩। ফলে আদালতে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিরোধ নিস্পত্তিতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হওয়ায় নগরের বাসিন্দারা আর্থিক ক্ষতি, হয়রানী ও বিভিন্ন প্রতিকুলতার সম্মুখীন হচ্ছেন।
দেশের প্রতিটি সিটি কর্পোরেশনের এখতিয়ারাধীন এলাকায় কতিপয় সুনির্দিষ্ট বিরোধ এর সহজ ও দ্রুত নিষ্পত্তি প্রয়োজন আছে। সিটি কর্পোরেশনের নাগরিকদের মাঝে সংঘটিত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিরোধ স্থানীয় পর্যায়ে মীমাংসার জন্য কোন আইন প্রনয়ন করা হয়নি। ফলে যেকোন ধরণের বিরোধ নিস্পত্তির জন্য তাদের ছুটে যেতে হয় আদালতের কাছে। আদালতে এ সকল ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র মামলার জন্যও কমপক্ষে দুই বছর অপেক্ষা করতে হয়। আবার এ ক্ষুদ্র মামলা থেকেই জন্ম নেয় বৃহত্তর বিরোধ, সৃষ্টি হয় আরো মামলা । অনেক ক্ষেত্রে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়। এভাবে আদালতের মামলার স্তুপ জমতে থাকে।
জনাব ফজলুল হক, সম্পাদক, এমএলএএ, স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির উদাহরণ দিয়ে সিটি কর্পোরেশন এলাকায় এ ধরণের আইনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি মনে করেন, স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ নিষ্পত্তি করা গেলে সাধারণ মানুষ উপকৃত হবে। জনাব জাকির হোসেন, প্রধান নির্বাহী, নাগরিক উদ্যোগ, বিচার ব্যবস্থার প্রবেশগম্যতা নিশ্চিত করতে সার্বিকভাবে স্থানীয় পর্যায়ের শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তনের কথা তুলে ধরেন।
নগর পরিচালনা ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় পর্যায়ের বিরোধ নিষ্পত্তি একটি বড় ভুমিকা রাখবে বলে মনে করেন স্থপতি এবং নগর পরিকল্পনাবিদ জনাব ইকবাল হাবিব। অন্তর্ভুক্তিমূলক নগর সুবিধা নিশ্চিতে, নগর আদালত একটা ন্যায়ভিত্তিক ও সামাজিক পরিষেবার সুযোগ সৃষ্টি করবে।
জনাব জেডআই খান পান্না, অ্যাডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, মনে করেন যে “আদালত” শব্দ ব্যবহার করলে বিচারক ও আইনজীবী নিয়োগ সহ বিভিন্ন প্রক্রিয়া যুক্ত হয়ে যায়। ড. তোফায়েল আহমেদ, স্থানীয় শাসন বিশেষজ্ঞ, এই মন্তব্যে সহমত প্রকাশ করে বলেন যে, এই প্রক্রিয়াকে একটি বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা হিসেবে চিন্তা করতে হবে।
ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, আহ্বায়ক, এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্লাটফর্ম বাংলাদেশ, সম্মাননীয় ফেলো, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি), এবং সভাপতি, মাদারীপুর লিগ্যাল এইড এসোসিয়েশন (এমএলএএ) অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।
আইন বিশেষজ্ঞ মানবাধিকার কর্মী, শিক্ষাবিদ, এনজিও কর্মকতা ও সাংবাদিকদের অংশগ্রহণে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *